
বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
প্রথম পাতা » আর্ন্তজাতিক | শিরোনাম | সাবলিড » ট্রাম্পের শুল্কারোপে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের শুল্কারোপে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া
বিবিসি২৪নিউজ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চ আমদানি কর ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘোষণায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিশ্বনেতারা।
মেলোনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্ক হারকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে আলবানিজ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি কর ‘অযৌক্তিক’।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব পণ্যে সর্বজনীন ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক দিতে হবে। ৯ এপ্রিল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনসহ প্রায় ৬০টি দেশকে নতুন করে উচ্চ শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প বলেছেন, এই পদক্ষেপগুলো ‘আমেরিকাকে আবার ধনী করে তুলবে’। তিনি আরো বলেন, এসকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘খুব সদয়’ ছিলেন।ট্রাম্পের মিত্র মেলোনি বলেছেন, ইইউর পণ্যে আরোপিত শুল্ক ‘কোনো পক্ষের জন্যই যথাযথ হবে না’। তবে তিনি ‘বাণিজ্য যুদ্ধ রোধে’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানান। তার স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন তার কম্পানি ও কর্মীদের সুরক্ষা দেবে এবং একটি উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের তাওইসেইচ মাইকেল মার্টিন বলেছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ এবং ‘এটি থেকে কেউ উপকৃত হবে না।
’
ট্রাম্প যেসব দেশকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে বিবেচনা করেন, চীন তাদের মধ্যে একটি। দেশটির পণ্যের ওপর ৫৪ শতাংশ কর হার যুক্ত করা হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিলম্বে শুল্ক বাতিল’ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আরো জানিয়েছে, অন্যথায় চীন ‘নিজস্ব অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হান ডাক-সু বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ এখন ‘বাস্তবে রূপ নিচ্ছে’ এবং পূর্ব এশীয় দেশটিতে ২৫শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের পর তার সরকার ‘বাণিজ্য সংকট কাটিয়ে ওঠার’ উপায় খুঁজবে।
জাপান বলেছে, তাদের পন্যে ২৪ শুল্ক আরোপ ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’। অন্যদিকে থাইল্যান্ড বলেছে, তারা তাদের ৩৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে আলোচনা করবে। ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপের ফলে ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য এশীয় অর্থনীতি দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের শুল্ক আরোপ চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিক্রিয়ামূলক মার্কিন পদক্ষেপ। কারণ চীন মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে। এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অন্যান্য দেশগুলোকে ‘প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, ‘কারণ যদি প্রতিশোধ নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
গতকাল বুধবার ট্রাম্প তার ঘোষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকোর নাম উল্লেখ করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী নির্বাহী আদেশ বজায় থাকবে। যাতে ফেন্টানাইল এবং সীমান্ত সংকট সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দুটি দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
সেকল দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে সেসব দেশগুলোর নেতারাও ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজ বলেছেন, আমেরিকানদের এ কারণে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হবে।